ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে (ইউসিবি) তিন যুগ পর আবার হুমায়ূন পরিবারের নিয়ন্ত্রণ কায়েম হয়েছে। ইতিহাসে দেখা যায়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আর্থিক ব্যক্তিত্ব আখতারুজ্জামান বাবু শেখ হাসিনার পরিবারের পাশে সব সময় ছিলেন। তিনি শুধু রাজনৈতিক সহায়তা নয়, শেখ হাসিনার প্রথম মার্সিডিস ব্র্যান্ডের বুলেটপ্রুফ গাড়ি উপহার দিয়েও ছিলেন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফেরার পর বাবু দেশে ফিরে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে আগ্রহী হন। ১৯৯৯ সালের ২৬ আগস্ট সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় ইউসিবির নিয়ন্ত্রণ নেন এবং তৎকালীন চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ চৌধুরীকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। তবে ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির সময় মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ইউসিবিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফেরার পর বাবু আবার ব্যাংকের পরিচালক হন।
২০১২ সালে আখতারুজ্জামান বাবুর মৃত্যুতে ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের দায়িত্ব নেন ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ। ২০১৮ সালে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণও চলে আসে জাভেদের পরিবারের হাতে। জাভেদ, তার স্ত্রী রুখমিলা জামান ও ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী ব্যাংকটিকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ আছে। ব্যাংকের ঋণ বিতরণ, কেনাকাটা ও অন্যান্য কার্যক্রমে নিয়মিত কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
২০২৩ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জাভেদ দেশ ত্যাগ করেন। এরপর তার সম্পদের তথ্য এবং পাচার করা অর্থের খবর প্রকাশ পেতে থাকে। লন্ডনসহ বিভিন্ন স্থানে তার সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যেই জাভেদের সম্পদ জব্দ ও পাচার করা অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ইউসিবির বর্তমান চেয়ারম্যান শরীফ জহীর জানিয়েছেন, “অতীতের অনেক ঘটনা আছে। এখন আমরা ব্যাংকটিকে দ্রুত উন্নত অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে ব্যাংক নতুন দিশায় এগোবে।


