দেশের বেশ কিছু দুর্বল ব্যাংক বর্তমানে তারল্য সংকটে ভুগছে। এ সংকট মোকাবিলায় এসব ব্যাংক বিকল্প উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ গ্যারান্টির আওতায় ঋণ নেওয়া এবং উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহের মাধ্যমে তারল্য ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে। কিছু ব্যাংক ১১ থেকে ১২ শতাংশ সুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টিতে ধার নিয়েছে, যা এখনো সব ব্যাংকের জন্য ছাড় করা হয়নি। ফলে বাকি অর্থ দ্রুত ছাড়ের জন্য তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অন্যান্য ধারদাতা ব্যাংকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে।
দুর্বল ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং করপোরেট গ্রাহকদের থেকে বাড়তি আমানত সংগ্রহের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। পাশাপাশি, বিশেষ গ্যারান্টি বন্ড ছাড়ার মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহেরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবুও এসব ব্যাংক অতিরিক্ত সুদের চাপে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। ব্যাংকগুলোর নিজেদের মধ্যেও ঋণ নিতে গেলে সুদের হার ১৪ শতাংশ পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে, যা দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যাংক বন্ধ করার বদলে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি নির্ধারকরা বলছেন, যেসব ব্যাংকগুলো দুর্বল অবস্থায় আছে, তাদের ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করা হবে এবং এ সংকট নিরসনে নতুন কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সরকার পতনের পর নতুন গভর্নর দায়িত্ব নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ ছাড়ে দেওয়া সুবিধা বন্ধ করে দেন। এ কারণে দুর্বল ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত চাপের মধ্যে পড়ে। সরকার পরিবর্তনের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ সহায়তা দিয়ে এই ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখা হচ্ছিল, কিন্তু বর্তমান নীতির ফলে ব্যাংকগুলোকে নিজেদের আমানত সংগ্রহ এবং ঋণ আদায়ের মাধ্যমে শক্তিশালী হতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকট কাটাতে আরও বিকল্প পথ খুঁজছে এবং বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে।


