ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ২৯তম আসরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরতে আসা শিশুরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে। পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে বৃহস্পতিবার শিশুদের কলরবে মেতে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। ৫ বছরের নাহিয়ান মাহমুদ রাফি মেলায় নিয়ে যাবার আবদার করেছিল বাবা আক্তার মাহমুদের কাছে। ছেলের বায়না মেটাতে মেলায় এসে শিশু পার্কের বিভিন্ন রাইড উপভোগ করে আনন্দিত হয় সে। একইভাবে খিলক্ষেত থেকে আসা আরিয়ানও শিশু পার্ক দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। তার বাবা ছেলের এমন আনন্দ দেখে আপ্লুত হন। বৃহস্পতিবার ছুটির দিন না হওয়ায় মেলার স্টলগুলোতে ভিড় কম থাকলেও শিশু পার্ক ছিল সরগরম। নাগরদোলা, ম্যাজিক নৌকা, ট্রেনসহ বিভিন্ন রাইড শিশুদের মন জয় করে। সব মিলিয়ে শিশুপার্কটি ছিল মেলার অন্যতম আকর্ষণ।
এবারের মেলায় মূল ভবনের পেছনে একটি অস্থায়ী শিশু পার্ক তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ১৫টি রাইডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইলেকট্রিক সাম্পানে দোল খাওয়ার টিকিট মূল্য ১০০ টাকা। হেলিকপ্টার, সুইং চেয়ার, ভূতের বাড়ি, ঘোড়া ও মেরি ঘোড়াসহ বিভিন্ন রাইডের টিকিট মূল্য ৮০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। পথশিশু ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুযোগ। শিশু পার্কের ম্যানেজার লিটন বলেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি মেলা আরও জমজমাট হয়ে উঠবে। মেলায় আসা দর্শনার্থী ফারুক আহমেদ বলেন, “মেলার শুরুতে কিছুটা এলোমেলো মনে হলেও কয়েকদিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।”
এদিকে যমুনা ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড অটোমোবাইল লিমিটেডের প্যাভিলিয়নে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অফার পেয়ে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার রাজিব সাহা জানান, গৃহস্থালি পণ্য বিশেষ ছাড়ে বিক্রি করা হচ্ছে। মেলায় আসা গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার বলেন, যমুনার পণ্য টেকসই হওয়ায় নিয়মিত কেনেন। তবে বিদেশি পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই হতাশ। বাণিজ্যমেলার পরিচালক বিবেক সরকার জানান, মেলায় কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে বিআরটিসির শাটল বাস সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে।


