বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) তাদের পূর্বঘোষিত ডিম ও মুরগির উৎপাদন বন্ধের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিদের স্বার্থ রক্ষা এবং কর্পোরেট কোম্পানির সিন্ডিকেট বন্ধসহ দশ দফা দাবি জানিয়ে বিপিএ ১ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে ডিম ও মুরগি উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। সংগঠনের সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার দাবি করেছিলেন, কর্পোরেট সিন্ডিকেটের কারণে প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য গুরুতর হুমকি।
তিনি আরও বলেন, “সরকারের কাছে বারবার আবেদন করার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর আধিপত্যের কারণে মুরগি ও ডিমের বাজার অস্থিতিশীল। প্রান্তিক খামারিরা এই প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। ফলে দেশের প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে রয়েছে।”
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিপিএ’র ১০ দফা দাবি পূরণের আশ্বাসে এই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
বিপিএ যে ১০টি দাবি তুলেছে, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক খামারিদের সংকট নিরসন সম্ভব বলে মনে করছে সংগঠনটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. কর্পোরেট কোম্পানিগুলোকে শুধু ফিড ও বাচ্চা উৎপাদনে সীমাবদ্ধ রাখা।
২. বাণিজ্যিকভাবে ডিম ও মুরগি উৎপাদন বন্ধ।
৩. ফিড ও বাচ্চার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ।
৪. প্রান্তিক খামারিদের পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত।
৫. সহজ শর্তে ঋণ ও ভর্তুকি।
৬. ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য প্রণোদনা।
৭. প্রান্তিক খামারিদের জন্য আলাদা বাজার সুবিধা।
৮. কর্পোরেট সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন।
৯. চুক্তিভিত্তিক ফার্মিং বন্ধ।
১০. প্রান্তিক খামারিদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ।
সংগঠনটির দাবি, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে দেশের পোল্ট্রি খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিপিএ সভাপতি আশা প্রকাশ করেছেন, সরকারের আশ্বাস অনুযায়ী দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে প্রান্তিক খামারিরা টিকে থাকতে পারেন এবং পোল্ট্রি খাতের সংকট সমাধান হয়।


