বিগত সরকার আমলে বেপরোয়াভাবে ৩ হাজার ৪০০-এরও বেশি টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স ইস্যু করে পুরো খাতের ভারসাম্য নষ্ট করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বলেন, “টোল আদায়ের লক্ষ্যেই আওয়ামী লীগ সরকার অতিরিক্ত লেয়ার ইনজেক্ট করেছিল। এর ফলে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।”
শনিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং লাইসেন্সিং নীতি সংস্কার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকের আয়োজন করে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ (টিআরএনবি)।
তিনি আরও বলেন, “৫০ হাজার কোটি টাকার মতো বড় বিনিয়োগ রয়েছে টেলিযোগাযোগ খাতে। সেখানে মাত্র ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে নতুন কাউকে প্রবেশাধিকার দেওয়া প্রতিযোগিতামূলক নীতিমালার জন্য সহায়ক নয়। দীর্ঘমেয়াদি টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হলে শক্তিশালী ও কার্যকর নীতিমালা দরকার।”
লাইসেন্সধারী অপারেটরদের উদ্দেশে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “স্বার্থ ত্যাগের মানসিকতা না থাকলে কোনো নীতিমালাই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। নিজেদের মধ্যে সমঝোতা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, সরকার নীতিমালায় সংস্কার আনলেও, সেটি মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করার জন্য খাতসংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা প্রয়োজন।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এমটবের মহাসচিব মোহাম্মদ জুলফিকার। টিআরএনবির সভাপতি সমীর কুমার দে’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) জহিরুল ইসলাম, বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ, গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, বাংলালিংকের সিইও ইওহান বুসে, আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম এবং টেলিযোগাযোগ বিশ্লেষক সুমন আহমেদ সাবির।
বক্তারা যুগোপযোগী নীতিমালার পাশাপাশি ইকোসিস্টেমকে স্থিতিশীল রাখতে অপারেটরদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


