প্রায় আড়াই মাস কারাভোগের পর উচ্চ আদালতের জামিনে মুক্তি পেলেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৯ কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তারা মুক্তি পান।
মুক্তি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মাগুরা, নেত্রকোনা, মুন্সিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর এবং ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজাররা। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার শাহাদাত জানান, মামলাটি আইনসম্মত ছিল না এবং এটি একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের ফল। তার মতে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত না হয়ে বরং সমিতির অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, “এই মামলার কোনো ভিত্তি নেই। এটি শুধুমাত্র পেশাগত বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য কর্মকর্তাদের হয়রানি করার একটি উপায়। আদালত এই বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের জামিন দিয়েছেন।”
অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সমিতির স্বার্থ রক্ষার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করার কারণে তাদের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কর্মকর্তারা পল্লী বিদ্যুৎ খাত সংস্কার, অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ এবং বোর্ড ও সমিতিকে একীভূত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে সরকার পরিবর্তনের পর তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এবং চাকরিচ্যুতিসহ নানা হয়রানি শুরু হয়।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী মনে করেন, এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় খাতটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সরবরাহ করা নিম্নমানের সামগ্রী এবং বৈষম্যের বিষয়ে কথা বলায় কর্মকর্তারা রোষানলে পড়েন।
আড়াই মাস পর জামিনে মুক্তি পাওয়ায় কর্মচারীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের আশা, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে খাতটির সংস্কার এবং পেশাগত বৈষম্যের অবসান ঘটবে।


