যমুনা নদীর ওপর দেশের প্রথম ডাবল লাইন ডুয়েল গেজ রেলওয়ে সেতু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতু ২০২৫ সালের জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে। প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, সেতুর নির্মাণ কাজের ৯৮ শতাংশ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ৪.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুতে পূর্ব থেকে পশ্চিম রেলস্টেশনের দূরত্ব ১৩ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
এটি দেশের বৃহত্তম ডেডিকেটেড রেলওয়ে সেতু, যার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৬,৭৮০.৯৫ কোটি টাকা। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) দিয়েছে প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকা, আর বাকি অর্থ বরাদ্দ করেছে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পটি ২০১৬ সালে অনুমোদন পেলেও নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের আগস্টে। ২০২১ সালের মার্চে সেতুর ভিত্তি স্থাপন করা হয়। বঙ্গবন্ধু সেতুর প্রায় ৩০০ মিটার উজানে স্থাপিত এই সেতুতে গ্যাস পাইপলাইন সুবিধাও রাখা হয়েছে।
নতুন এই রেল সেতু চালু হলে দেশের পশ্চিমাঞ্চল ও রাজধানীর মধ্যে রেল যোগাযোগের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এতে দৈনিক ৮৮টি ট্রেন চলাচল করতে পারবে, যেখানে বর্তমানে যমুনা সেতুতে দিনে সর্বোচ্চ ২২টি ট্রেন চলাচল সম্ভব। সেতুটি শুধু পরিবহন ব্যবস্থায় উন্নতি নয়, দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি রেলওয়ের সময়সূচি আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে এবং পরিবহন খরচ কমিয়ে আনবে।


