মধ্য অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভ্যাট বৃদ্ধি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়েছে। শতাধিক পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়িক খাত থেকে তীব্র প্রতিবাদ ওঠে। জনদাবির মুখে এনবিআর মোবাইল ফোন, রেস্তোরাঁ, ওষুধ ও ওয়ার্কশপসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বর্ধিত ভ্যাট প্রত্যাহার করে।
এনবিআরের এ পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে দেওয়া প্রতিশ্রুতি। ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের চতুর্থ কিস্তি পেতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অতিরিক্ত ১২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের শর্ত মেনে নেয় বাংলাদেশ। তবে এ শর্ত পূরণে বাজেট প্রক্রিয়া ছাড়াই অর্থবছরের মাঝামাঝি ভ্যাট বৃদ্ধি জনগণের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশে এনবিআর জানায়, ওষুধের ওপর ভ্যাট পূর্বের ২.৪ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে মোবাইল সেবা এবং ইন্টারনেটের ওপর বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। রেস্তোরাঁ খাতেও ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে ফিরিয়ে আনা হয়। গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত নীতি নির্ধারণে ত্রুটি ও আইএমএফের সঙ্গে দুর্বল আলোচনা প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়। পলিসি এক্সচেঞ্জের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ মন্তব্য করেন, অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ না করে ভ্যাট বৃদ্ধি একটি ভুল পদক্ষেপ।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “বাংলাদেশে কর আদায়ের হার এখনও বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে কর আদায়ের প্রক্রিয়া জনবান্ধব হতে হবে।” বর্ধিত ভ্যাটের প্রতিবাদে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও সাধারণ জনগণ আন্দোলনে নামায় এনবিআর দ্রুত সিদ্ধান্ত সংশোধন করে। এ ঘটনায় সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তা আরও একবার সামনে এসেছে।


