অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান সচিব শফিকুল আলম গত শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘নিরাপদ বাংলাদেশ চাই’ শিরোনামে এক সেমিনারে বক্তৃতা প্রদানকালে দেশে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস মুক্তির গুরুত্বের উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে ছাত্রলীগ এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যা দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছিল। এ কারণে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
শফিকুল আলম জানান, ছাত্রলীগের কার্যকলাপ দেশের শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে ছাত্রলীগ একটি অশান্ত পরিবেশ তৈরি করেছিল। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সরকার ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, দেশের নতুন উন্নয়ন পথ তৈরি করতে হলে শিক্ষাঙ্গন থেকে সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে হবে। ‘শিক্ষাঙ্গনকে নিরাপদ করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারে। দেশের ভবিষ্যত উন্নতির জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি,’ যোগ করেন তিনি।
সেমিনারে শফিকুল আলম শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসের আখড়া হতে না দিয়ে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল পরিবেশে পরিণত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাস মুক্ত করা প্রথম পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীদের যাতে নিরাপদ পরিবেশে লেখাপড়া করতে পারে, সেজন্য সব ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দূর করতে হবে।’
আলম আরো বলেন, ‘ছাত্রদের আন্দোলনে ছাত্রলীগ বিপক্ষে ছিল। তাদের কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিবাদী মনোভাব দেখা গেছে। ছাত্রলীগের এই ভূমিকা পুরো জাতির জন্য ক্ষতিকর ছিল।’ তিনি শিক্ষাঙ্গনকে নিরাপদ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে, তাদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে।’
তিনি অবশেষে বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, উন্নত এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’


