মাছে-ভাতে বাঙালির চিরন্তন প্রবাদটি এখন বাস্তবে যেন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। চাল ও ইলিশের বাজারে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে তুলেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চালের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই, বরং ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। একই সঙ্গে ইলিশের বাজারেও রয়েছে দামের উর্ধ্বগতি।
গত কয়েক মাস ধরে চালের বাজারে অস্থিরতা চললেও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তা কমাতে ব্যর্থ হয়েছে। আমদানি শুল্ক কমানো এবং পরবর্তী সময়ে পুরোপুরি তুলে নেওয়া সত্ত্বেও বাজার স্থিতিশীল হয়নি। বরং ভরা আমন মৌসুমেও বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে মিনিকেট চাল এখন প্রতি কেজি ৮০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। কেরানীগঞ্জের আগানগর বাজারের এক ক্রেতা রমিজ বলেন, “বাজারে প্রচুর চাল আছে, কিন্তু দাম কমছে না। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আমাদের পকেট কাটছে।”
বিক্রেতারাও বলছেন, মিল পর্যায়ে চালের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। তবে সরকারের মনিটরিং অভিযানের অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। এদিকে ইলিশের বাজারেও চরম অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম এখন ২৪০০-২৫০০ টাকার মধ্যে। দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩২০০ টাকায়। ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় এ দাম বেড়েছে বলে জানান ইলিশ বিক্রেতা শুকুর আলী। তবে ক্রেতারা বলছেন, দাম এত বেশি হওয়ায় ইলিশ কেনা অনেকের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজধানীর বেশ কিছু বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য মাছের দাম স্থিতিশীল থাকলেও ইলিশের দাম ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে। চাষের রুই, কাতল, পাঙাশের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও নদীর মাছের দামে বড় তারতম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক কেজি দেশি শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৪০০-১৫০০ টাকায়, যা সাধারণ মানুষের জন্য কিনতে কষ্টসাধ্য। বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা। নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাজারের অস্থিরতা কমানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে মনোযোগী না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।


