পহেলা বৈশাখের আনন্দ শোভাযাত্রার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে নির্মিত কিছু প্রতীকী মোটিফে আগুন লাগার ঘটনায় শুরু হয়েছে তদন্ত। শনিবার ভোরে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যেখানে ফ্যাসিস্ট চরিত্রের একটি মুখাবয়ব এবং শান্তির প্রতীক পায়রার কিছু অংশ আগুনে পুড়ে যায়।
ঘটনার পর পরই শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করছে। কমিটিতে থাকছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির একজন সদস্য, চারুকলা অনুষদের একজন প্রতিনিধি এবং ডিনদের মধ্য থেকে একজন।
চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম শেখ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এবারের শোভাযাত্রার জন্য বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিভিন্ন প্রতীকী মোটিফ তৈরি করা হচ্ছিল। এর মধ্যে প্রতীকী দানবীয় ‘ফ্যাসিস্ট’ মুখাবয়ব ছিল মূল আকর্ষণের একটি। ভোররাতে কে বা কারা তা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ জানান, পরিকল্পিতভাবেই আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে, তবে চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ফুটেজ সংগ্রহ সম্ভব হয়নি, তবে বিকল্প উপায়ে তা দেখা হচ্ছে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালিদ মনসুর জানান, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আগুন লাগার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নতুন করে মোটিফ তৈরি করা হবে কিনা—এই বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম শেখ জানান, এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে এবং বিকেলের আগে কিছু বলা সম্ভব নয়।
এদিকে বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপনের জন্য গঠিত কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে জরুরি বৈঠক চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা জানানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, চারুকলার যেকোনো প্রয়োজনে পূর্ণ সহায়তা দেওয়া হবে।


