দেশে গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই বিদ্যুৎখাত বড় ধরনের চাপে পড়েছে। জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং উৎপাদন সীমাবদ্ধতার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় লোডশেডিং বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এর প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এপ্রিলে-মে মাসে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে, কিন্তু উৎপাদন থাকতে পারে প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে। ফলে ঘাটতি তৈরি হয়ে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহে টানাপড়েনের কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ ক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। তরল জ্বালানিনির্ভর কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আমদানিকৃত বিদ্যুতের সরবরাহও কমেছে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদকদের বকেয়া ও ডলার সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এ অবস্থায় শহরে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও দিনে ৪-৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র উৎপাদন বাড়ানোই সমাধান নয়—গ্রাহক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে বড় ধরনের সাশ্রয় সম্ভব। সরকারও অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো, দোকানপাটের সময়সীমা নির্ধারণ এবং অফিস সময়সূচি পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। এতে প্রায় ১,৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় আলো-ফ্যান বন্ধ রাখা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং সন্ধ্যার পর ব্যবহার সীমিত করা গেলে সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকটের প্রভাবে আসন্ন গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। তবে সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগে সাশ্রয় নিশ্চিত করা গেলে ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


