জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতি বাবুল কাজী (৫৯) গ্যাস লাইটার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার ভোরে রাজধানীর বনানীর নিজ বাসার ওয়াশরুমে গ্যাস লাইটার বিস্ফোরণের ফলে বাবুল কাজীর শরীরের ৭৪ শতাংশ দগ্ধ হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাকে আইসিইউতে রাখা হয় এবং তার জন্য একটি ১৬ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
বাবুল কাজী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পরিবার থেকে একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তার বাবা ছিলেন বিখ্যাত আবৃত্তিকার কাজী সব্যসাচী এবং মা উমা কাজী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে ছোট। তার বড় দুই বোন খিলখিল কাজী ও মিষ্টি কাজী পরিবারের অন্যতম পরিচিত মুখ। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর কাজী নজরুল ইসলামকে নাগরিকত্ব দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়। সেই সময় তার পরিবারও বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
বাবুল কাজীর মৃত্যুর খবরে তার পরিবার ও নিকটজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কাজী নজরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের জন্য এ ঘটনা এক অপূরণীয় ক্ষতি। বাবুল কাজী ছিলেন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক নিবেদিতপ্রাণ অংশ। তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে নজরুলের সাংস্কৃতিক প্রভাবের মধ্যে। তবে তিনি নিজের মতো করে জীবন যাপন করতেন এবং সব সময় পরিবারের ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধার সঙ্গে লালন করতেন।
বাবুল কাজীর স্মৃতি চিরকাল তার পরিবার ও কাছের মানুষের মনে অমলিন থাকবে। তার এই অকালমৃত্যু জাতীয় কবির পরিবারের জন্য একটি বড় শোকের বিষয়।


