গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে এই সহিংস ঘটনার পর জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান জেলার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারির নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসনের এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
হামলার শিকার হয় এনসিপির গাড়িবহর, যখন কেন্দ্রীয় নেতারা গোপালগঞ্জ পৌরপার্কে অনুষ্ঠিত সমাবেশ শেষে ফিরে যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থকরা হঠাৎ করে গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর হয় এবং নেতাকর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
এর আগে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে পৌরপার্ক এলাকায় এনসিপির সমাবেশে প্রথম দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। মঞ্চ প্রস্তুতির সময় সাউন্ড সিস্টেম, মাইক ও চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে পৌঁছান এবং বক্তৃতা দেন।
দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেন সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সামান্তা শারমিন, আখতার হোসেন, তাসনিম জারা ও সারোয়ার তুষার। বক্তৃতায় তারা সরকারের ব্যর্থতা, দমননীতি এবং ছাত্রলীগের সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও ফেরার পথে দলীয় নেতাকর্মীরা আবারও সহিংস হামলার মুখে পড়েন। এতে গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
বর্তমানে জেলায় ১৪৪ ধারা কার্যকর রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এনসিপি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।


