শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশের একাধিক ইউনিটের যৌথ অভিযানে এক ডিআইজি ও তিন পুলিশ সুপারকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিশ্চিত করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। আটক কর্মকর্তারা হলেন—গাজীপুরের সাবেক কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান ও আবুল হাসনাত এবং নীলফামারীর ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।
আইজিপি বাহারুল আলম জানান, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট তাদের আটক করে পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যেগুলো তদন্তাধীন। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সূত্র জানায়, আটক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান জোরদার করা হয়েছে, যার অংশ হিসেবে এসব কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। বাংলাদেশ পুলিশ সম্প্রতি নিজেদের বাহিনীর শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে, যার অংশ হিসেবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর আগে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি উঠেছিল, যেখানে অভিযোগ ছিল তিনি গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশের ভেতরে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে এই ধরপাকড় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা ধরে রাখতে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তবে আটক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন ও আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আটক কর্মকর্তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আইন অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।


