ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হলো ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচি। শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে জমকালো এই আয়োজনে প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট বাংলাদেশ সকল রাজনৈতিক মত ও ধর্ম-বর্ণের মানুষের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে সামনে নিয়ে আসে।
অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তার কণ্ঠে উচ্চারিত ঘোষণাপত্রে বিশ্ব মুসলিম নেতৃবৃন্দকে ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানানো হয়। সেই সঙ্গে গাজায় চলমান ইসরাইলি হামলা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয়।
আয়োজনে অংশ নেয়া মানুষদের চোখেমুখে ছিল প্রতিবাদের আগুন। গাজায় শিশু হত্যা, হাসপাতাল ধ্বংস এবং মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে বক্তারা বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত হওয়ার আহ্বান জানান। বক্তৃতায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম, এনসিপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বলেন, “ফিলিস্তিন শুধু আরবদের নয়, সারা মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের স্পন্দন।”
hasbet
কর্মসূচিতে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক। তিনি ফিলিস্তিনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি চেয়ে মোনাজাত করেন।
রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোট-বড় মিছিল নিয়ে মানুষের ঢল নামে উদ্যানে। তরুণ-তরুণী, প্রবীণ, শিশু, এমনকি নানা পেশার মানুষের সরব উপস্থিতি এই কর্মসূচিকে রূপ দেয় এক বিশাল গণজমায়েতে। ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফিলিস্তিন পতাকার ঢেউয়ে মুখর ছিল সমগ্র সোহরাওয়ার্দী।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধাপরাধের বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের প্রতি আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, “ইসরাইলকে থামাতে হলে বিশ্বকে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে।”
এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ আবারও প্রমাণ করলো, ফিলিস্তিনের মুক্তির সংগ্রামে তারা এককাট্টা, অটল এবং সোচ্চার।


