গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী *সুমুদ ফ্লোটিলা* নৌবহরে ইসরাইলি হামলা ও অধিকারকর্মীদের আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে “ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক” আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষক অংশ নেন।
মানববন্ধনে শিক্ষকরা বলেন, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসন চলছে। খাদ্য, ওষুধ ও ন্যূনতম মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হয়ে গাজাবাসী মানবেতর জীবন যাপন করছে। অথচ মুসলিম বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই আগ্রাসন রুখতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীদের আটক করে ইসরাইল মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘৃণিত নজির স্থাপন করেছে। শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে গাজায় খাদ্য ও ওষুধ নিয়ে যাওয়ার পথে আক্রমণ চালানো আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী। তারা বলেন, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অস্বীকার করে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
শিক্ষকরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনাকেও একপেশে বলে আখ্যায়িত করেন। তাদের মতে, ওই পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনের অস্তিত্বকে উপেক্ষা করা হয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে আরও সংকট তৈরি করছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক মহলকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া এই সমস্যা কখনো সমাধান হবে না। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণ ও বুদ্ধিজীবী সমাজ সবসময় ফিলিস্তিনের ন্যায্য সংগ্রামের পাশে থাকবে বলেও ঘোষণা দেন।
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা স্লোগান দিয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আটক অধিকারকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন।


