শিমুল বিশ্বাস বলেন, উন্নত দেশগুলো শ্রমজীবী মানুষের তিনটি মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করে উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, “আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান, সিঙ্গাপুরসহ উন্নত দেশগুলো শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে সেই মৌলিক অধিকার এখনো অনিশ্চিত। যার ফলে সরকার বিভিন্ন সংকটে হোঁচট খাচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, “দেশের গার্মেন্টস ও চামড়া শিল্পের শ্রমিকরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি। বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারও যথাযথ ক্ষতিপূরণ পায়নি।”
শ্রমিকদের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে শিমুল বিশ্বাস বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে শ্রমিকরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন।” প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক বলেন, “গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার যে দমন-পীড়ন চালিয়েছে তা কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া যাবে না। শ্রমিকরা মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বিচার বিভাগকেও আওয়ামী লীগ তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি বিশ্বাস করে দেশের জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণের মতামত অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হবে।” অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিকদলের সদস্য সচিব কামরুজ্জামান। সঞ্চালনায় ছিলেন ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লায়ন ফরিদ আহমেদ।


