৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতের উদ্দেশে পালানোর পর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। এক মাস পর, ৫ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা গণভবনকে জাদুঘরে পরিণত করার জন্য কাজ করবেন। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে কমিটির সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
গত ২ নভেম্বর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সুরক্ষার লক্ষ্যে জাদুঘরের কাজ চলছে। তিনি বলেন, গণভবনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী সরকারের নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরা হবে। এখানে আয়নাঘরের একটি রেপ্লিকা তৈরি করা হবে এবং একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে যে কোন সরকারই ক্ষমতায় আসুক, এই জাদুঘরকে সংরক্ষিত রাখা হবে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম জানান, জাদুঘরের কাজ শিগগিরই সম্পন্ন হবে এবং জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গণভবন হলো দেশের ১৬ কোটি মানুষের কষ্ট ও গৌরবের প্রতীক, যা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের মূর্ত প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। এই জাদুঘরের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে গণভবনের ইতিহাস তুলে ধরা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত ২৮ অক্টোবর গণভবন পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টা এবং কর্মকর্তারা। তাদের উপস্থিতি এই উদ্যোগের গুরুত্ব এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গণভবনের স্থায়ী গুরুত্ব নির্দেশ করে।
জাদুঘরের পরিকল্পনা সবার মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করছে, যেখানে ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়গুলোকে স্মরণ করা হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে।


