বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘নির্বাচিত সরকারই শ্রেষ্ঠ সরকার’—এমন মন্তব্য করে তিনি দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তাদের সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার করবে এবং অবিলম্বে নির্বাচন আয়োজন করবে। তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন একটি দরজা, সে গেট পার হলেই গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যেতে হবে।’
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় মহিলা দলের আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। এদিন, ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সভায় বিএনপি মহাসচিব উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে সবসময় ষড়যন্ত্র হয়ে থাকে, কিন্তু তারা কখনোই এসব ষড়যন্ত্রের কাছে পরাস্ত হয়নি।
মির্জা ফখরুল দাবি করেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা সব সময় দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে, কিন্তু তারা দৃঢ়ভাবে গণতন্ত্রের পক্ষে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য ১৭ বছর ধরে বিএনপি সংগ্রাম করেছে, এবং এই সময়ের মধ্যে বহু মামলা, জেল, গুমের শিকার হয়েছেন দলীয় নেতারা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখনও বিপদের শেষ হয়নি, বরং নতুন বিপদ আসার আশঙ্কা রয়েছে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চক্রান্ত আবারও শুরু হয়েছে, তাই আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।’
ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের পর দেশকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসেন। তাঁর নেতৃত্বে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল এবং দেশের ভাগ্য বদলে গিয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘যদি সেই সময়ে জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নিতেন না, তবে দেশের পরিস্থিতি আজকের মতো থাকত না।’
বিএনপি মহাসচিব এসময় বর্তমান সরকারকে তীব্র সমালোচনা করেন, দাবি করেন যে আওয়ামী লীগ গত ১৬ বছর ধরে দেশকে নির্যাতন করেছে এবং দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ও ব্যাংকিং সেক্টর ধ্বংস করেছে। তিনি বলেন, ‘এটা শুধু দুর্নীতির কথা নয়, বরং একটি পুরো জাতির প্রতি অবিচার।’


