বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি) এর নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, যিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে, সাত মাস আয়নাঘরে বন্দি থাকার সময় ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। তিনি বলেছেন, এই সময়কাল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল, যখন তিনি অনেকবার আত্মহত্যা করার চিন্তা করতেন।
হুম্মাম কাদের বলেন, তার গুমের ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, এবং তার সাথে আরও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা, যারা সীনিয়র রাজনীতিবিদদের সন্তান ছিলেন, তাদেরও গুম করা হয়েছিল। তিনি এখন বুঝতে পারেন যে, ক্ষমতাসীনরা চেয়েছিল এই পরিবারগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে, যেন পরবর্তী প্রজন্ম প্রতিবাদ করার সাহস না পায়। তবে তার মতে, মায়ের দোয়া এবং মানুষের দোয়া ও সহযোগিতায় তিনি সাত মাস পর মুক্তি পেয়ে আল্লাহর রহমত পেয়েছেন।
গুমের সময়কালে আয়নাঘরের ভেতরে হুম্মামের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ছিল ভয়াবহ। তিনি উল্লেখ করেন যে, সেখানে খাবারের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত কম, এবং মাঝে মাঝে তাকে মারধরের শিকার হতে হয়েছে। একসময়, তার মনে হত আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো পথ নেই। তিনি জানিয়েছেন, তার বন্দিত্বের সময় এক গামছার দিকে তাকিয়ে তিনি নিজেকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করতেন।
আয়নাঘরে রাখা অবস্থায় তিনি দেয়ালে খোদাই করা কিছু লেখা দেখেছিলেন, যার মধ্যে একজন লিখেছিল, “আপনাকে এখানে কতদিন রাখা হবে, কেউ বলবে না।” এই লেখা তাকে আরও ভীত করে তুলেছিল।
তবে, তার অভিজ্ঞতা তাকে একটি জীবনদর্শন দিয়েছে। তিনি বলেন, তার একমাত্র লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে যেন আর কখনো আয়নাঘরের মতো কোনো জায়গা তৈরি না হয়, এবং রাজনীতি যেন রাজনৈতিক টুলস হিসেবে ব্যবহার না হয়। তিনি আশা করেন, গুম কমিশনের মাধ্যমে একদিন এই গুমের রহস্য বের হবে এবং তিনি এবং তার মতো আরো অনেকের পক্ষে কিছু সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে।


