ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সহযোগী প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। পরামর্শক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির জন্য ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বুধবার প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এই প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) সোলেমান খান। ২০১১ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০১৪ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময়সীমা বারবার বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে প্রকল্পের মোট ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে খাতগুলোর মধ্যে বরাদ্দ সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সূত্র জানায়, পরামর্শক ব্যয় বাড়ানোর পেছনে যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা হবে।
সাপোর্ট প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ২১৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। বিভিন্ন কারণে সংশোধনের মাধ্যমে তা বেড়ে ৪ হাজার ৯১৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা হয়। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৯৩.৩৫ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৯৬.৭ শতাংশ হলেও পুরোপুরি সমাপ্ত হয়নি। পরামর্শক খাতে বর্তমানে বরাদ্দ ১৬৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা ১৭১ কোটি ৯৩ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মিটিং ও ওয়ার্কশপের সম্মানি খাতে ৩২ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৭২ লাখ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ বলেছেন, প্রকল্পের সময়সীমা ও খরচ বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করা জরুরি। বিশেষ করে শেষ মুহূর্তে পরামর্শক ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা উচিত। তার মতে, স্বাধীন পরামর্শকের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত, বিশেষ করে সেতু বিভাগের নিজস্ব প্রকৌশলীরা থাকার পরও। **উন্নয়ন কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা** ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে। তবে সহায়ক প্রকল্পটি সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। এর আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, পরিবেশ সমীক্ষা, এবং নির্মাণ তদারকি অন্তর্ভুক্ত। পিইসি সভায় সংশ্লিষ্টদের প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি অসম্পূর্ণ থাকার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা এবং ব্যয় পুনর্বণ্টনের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ না করলে ভবিষ্যতে উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও বিলম্ব হতে পারে।


