ঈদ সামনে রেখে দেশের সড়ক ও মহাসড়কে যাত্রীচাপ সামাল দিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম বলেছেন, এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও সহনীয় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার কুমিল্লায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ঈদের আগে ও পরে কয়েক দিনের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী ছাড়বেন। একই সময়ে কোরবানির পশু পরিবহণও বাড়বে। ফলে মহাসড়কে বাড়তি চাপ তৈরি হবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সড়ক বিভাগ, বিআরটিএ এবং স্থানীয় প্রশাসন একযোগে কাজ করছে।
মহাসড়কে যানজট কমাতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষ নজরদারি বসানো হবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিতে চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দেশের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে ঈদযাত্রার দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। এ সময় বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাবিবুর রশিদ বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ায় সড়কে দুর্ঘটনার হার ধীরে ধীরে কমছে। তবে টেকসই সমাধানের জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।


