Wednesday, April 29, 2026
Home জাতীয় ইসকনের ২০২ অ্যাকাউন্টে জমা ২০০ কোটির বেশি

ইসকনের ২০২ অ্যাকাউন্টে জমা ২০০ কোটির বেশি

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন) বা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের ২০২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছিল মোট ২৩৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর মধ্যে গত ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়েছে ২২৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। বর্তমানে ব্যাংক হিসাবগুলোতে জমা রয়েছে মাত্র ১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

ইসকনের বিতর্কিত নেতা চিন্ময় কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টেও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। তার নামে জমা হয়েছিল তিন কোটি ৯২ লাখ টাকা, যার প্রায় পুরো টাকাই উত্তোলন করা হয়েছে। এ অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।  ৩০ নভেম্বর বিএফআইইউ চিন্ময় কুমার ধরসহ ইসকনের ১৭ সদস্যের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন ৩০ দিনের জন্য স্থগিতের নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশনার আওতায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন কার্তিক চন্দ্র দে, অনিক পাল, সরোজ রায়, সুশান্ত দাস, বিশ্ব কুমার সিংহ, চণ্ডীদাস বালা, জয়দেব কর্মকার, লিপি রানী কর্মকারসহ আরও অনেকে।

এসব অ্যাকাউন্টে জমাকৃত অর্থের  উৎস নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা ও বিএফআইইউ অর্থ জমা ও উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। কারা এই অর্থ জমা দিয়েছে এবং তা কোথায় ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।  বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরিক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সংশ্লিষ্টতা এই ঘটনার গুরুত্ব বাড়িয়েছে। এর আগে, ২৮ নভেম্বর তার ও ইসকন বাংলাদেশের ১৭ সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়।

ইসকনের এত বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দাতব্য সংস্থার আড়ালে অর্থ পাচার বা অবৈধ লেনদেনের একটি নেটওয়ার্ক থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।  এই ঘটনা ইসকনের আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর নতুন আলো ফেলেছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Recent Comments