রাজধানীর বারিধারার ডিপ্লোমেটিক জোনে শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতীয় হাইকমিশনে স্মারকলিপি দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। স্মারকলিপিতে ভারতের বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ জানানো হয়, যার মধ্যে রয়েছে ‘আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ে হামলা’, ‘ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন’ এবং ‘আজমির শরিফের নিচে শিব মন্দির থাকার দাবি তুলে উচ্ছেদের অপচেষ্টা’।
ইনকিলাব মঞ্চের শতাধিক সদস্য শুক্রবার বিকেলে গুলশান ২ নম্বর গোলচত্বর থেকে একটি র্যালি নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে যাত্রা শুরু করে। ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তারা শান্তিপূর্ণভাবে এগোতে থাকলে পুলিশের ব্যারিকেডে তাদের থামানো হয়। পুলিশ ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের মধ্যে আলোচনার পর তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে ভারতীয় হাইকমিশন কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পুলিশের সহায়তায় প্রতিনিধি দলটি হাইকমিশনে পৌঁছে স্মারকলিপি প্রদান করে।
গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) তারেক মাহমুদ শান্ত বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, “ইনকিলাব মঞ্চের শান্তিপূর্ণ র্যালি আয়োজন এবং স্মারকলিপি প্রদানের বিষয়টি পূর্ব অনুমতি অনুযায়ী হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল, তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”
ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা অভিযোগ করেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা বলেন, “ভারতই বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু নির্যাতনের দেশ। নিজেদের দেশে এই নির্যাতন বন্ধ না করে, তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তথ্য সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা আরও দাবি করেন, প্রতিবেশী দেশের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। তারা বলেন, “আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি শুধু অন্যায় ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে। এটি কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান।”
স্মারকলিপি প্রদান শেষে র্যালি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে এই ইস্যুতে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এ ধরনের প্রতিবাদ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে।


