আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, যদিও দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি, কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ের তদন্ত চলছে এবং সেখানে দলের বেশ কিছু নেতার নাম উঠে আসছে। তিনি বলেন, “আমরা এখনো দলের বিচারের বিষয়ে তদন্ত শুরু করিনি, তবে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। সরকার চাইলে আমরা দল হিসেবে বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত আছি।”
এছাড়াও, তিনি উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম, যুবলীগ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং তাদের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এ তদন্তের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, “তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ ক্রমাগত পাওয়া যাচ্ছে, যার ভিত্তিতে তদন্ত চলমান রয়েছে।”
তবে, চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আরও বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এখনো তদন্ত শুরু না হলেও ব্যক্তি পর্যায়ে যে তদন্তগুলো চলছে, সেখানে দলের অনেক নেতার জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। তিনি বলেন, “এখনও আমরা ব্যক্তিগত পর্যায়ে তদন্ত করছি, এবং যেহেতু তদন্ত প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে, সরকার সিদ্ধান্ত নিলে দল হিসেবে তাদের বিচারের জন্য আমরা প্রস্তুত থাকতে পারব।”
এছাড়া, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পুরাতন ভবনের সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেছেন। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমরা বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছি এবং সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর দলের সদস্যরা দাবি করেছেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু না হলেও, ব্যক্তিগতভাবে তাদের বিরুদ্ধে যে তদন্ত চলছে, তাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দলের মধ্যে কিছু নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।
তবে, প্রসিকিউটর দল সুষ্পষ্ট করেছে যে, তদন্তের পর যখনই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, তখনই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এবং ওই সময়ে বিচার কার্যক্রম শুরু করতে তারা প্রস্তুত থাকবে।
এদিকে, সরকার বা বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনও করা হয়নি। তবে, এটি স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে এই ধরনের তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে এবং সরকারের নির্দেশনায় দলের বিচারের বিষয়টি পরবর্তীতে সামনে আসতে পারে।


