ব্যক্তি করদাতাদের বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় শেষ হতে চলেছে। দুই দফা সময় বাড়ানোর পর আগামী ৩১ জানুয়ারি রিটার্ন জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই করদাতাদের রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এক কোটিরও বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। তাদের মধ্যে প্রতিবছর গড়ে ৪০ লাখের বেশি টিআইএনধারী রিটার্ন জমা দেন। তবে এবারও সময়সীমা বাড়ানোর প্রবণতা থেকে বের হতে পারেনি এনবিআর। এর আগে, ১৭ নভেম্বর এবং ২৯ ডিসেম্বর পৃথক আদেশে দুই দফায় এক মাস করে সময় বৃদ্ধি করা হয়।
চলতি বছরে এনবিআর কিছু ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন জমার ধরনে পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সরকারি কর্মকর্তা, তফসিলি ব্যাংকের কর্মী এবং মোবাইল ফোন অপারেটরসহ কিছু বহুজাতিক কোম্পানির কর্মকর্তাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, ম্যারিকো বাংলাদেশ, বার্জার পেইন্টস, বাটা শু কোম্পানি এবং নেসলে বাংলাদেশ। অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার এই নির্দেশনার কারণে অনেক ব্যাংকারসহ অন্যান্য পেশার ব্যক্তিরা কিছুটা সমস্যার মুখে পড়েছেন।
এনবিআরের সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। তবে অনলাইন এবং অফলাইনে মোট জমাকৃত রিটার্নের সংখ্যা এখনও চূড়ান্ত করেনি এনবিআর।করদাতাদের সুবিধার্থে রিটার্ন জমার সময়সীমা দুইবার বাড়ানো হলেও এবার আর সময় বাড়ানো হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে এনবিআর। এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বছরের আন্দোলন ও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে সময় বাড়ানো হয়েছিল।
তবে করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিটার্ন জমা দেওয়ার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সরকারের রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং করব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে সময়মতো রিটার্ন জমা দেওয়া জরুরি।


