শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম জোরদার করতে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) অনুকূলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গৃহীত ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির (সার্বভৌম গ্যারান্টি) মেয়াদ আরো তিন বছর বাড়িয়েছে সরকার।
৬ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের প্রচ্ছন্ন দায় ও আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির মেয়াদ বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্য পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে বর্ধিত মেয়াদে আইসিবির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম এবং পোর্টফোলিও পুনর্গঠন কার্যক্রম আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্তৃক নিবিড়ভাবে তদারক করা হবে। বর্ধিত মেয়াদে আইসিবির আর্থিক তারল্য পরিস্থিতি, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ কার্যক্রম এবং ঋণ পরিশোধ প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে তিন মাস পরপর অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে হালনাগাদ প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে চূড়ান্তকৃত এবং হালনাগাদ ঋণ পরিশোধ সূচি অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে।
তারল্য সংকটের কারণে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের কাছ থেকে উচ্চ সুদে নেয়া ঋণ পরিশোধের চাপ তৈরি হলে ২০২৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা চায় রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর ১০ শতাংশ সুদে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর করা হয়। তবে পরে আইসিবির আবেদনের ভিত্তিতে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর এ ঋণের সুদহার পরিবর্তন করে ব্যাংক রেটে (৪ শতাংশ) নির্ধারণ করা হয়। মঞ্জুরীকৃত ঋণের অর্থ ২০২৪ সালে ১২ ডিসেম্বর আইসিবির ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।
এ বিশেষ তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আইসিবির পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে, বোর্ডের দুজন পরিচালক, এমডি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তহবিলের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ২ হাজার কোটি টাকা আগের নেয়া উচ্চ সুদের ঋণ পরিশোধে (বিভিন্ন ব্যাংক, অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানে) ব্যয় করা হয়েছে। বাকি ১ হাজার কোটি টাকা পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ‘এ’ ক্যাটাগরির সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করেছে আইসিবি।


