চলতি বছরের অমর একুশে বইমেলার স্টলভাড়া ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে বলে গতকাল সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
গত রবিবার ২৬২ জন প্রকাশক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর বইমেলা পিছিয়ে ঈদের পরে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেলেন। স্টলভাড়া কমালেও বইমেলা পূর্বঘোষিত ২০ ফেব্রুয়ারিই হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকাশকরা বলছেন, তাঁরা ঈদের পর বইমেলা আয়োজনের দাবিতে অনড় রয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানান তাঁরা।
বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন প্রকাশকের কথা হয়। তাঁরা জানান, প্রকাশকরা এখনো বইমেলা ঈদের পরে করার পক্ষে। তাঁরা বলছেন, ২৫ শতাংশ স্টলভাড়া কমালেও রোজার মধ্যে বইমেলা করলে প্রকাশকরা আর্থিক লোকসানে পড়বেন।
বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচালক ও বইমেলা স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক আবুল বাশার ফিরোজ শেখ বলেন, ‘স্টলভাড়া কমানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মেলা যে ২০ ফেব্রুয়ারিই হচ্ছে তা-ও বোঝা গেল। স্টলভাড়া কমানোর আবেদন করা ছিল আগেই। এরপর আমরা মেলা পেছানোর আবেদন করি। দুটি আবেদনের মধ্যে শুধু স্টলভাড়া কমানোর আবেদন মন্ত্রণালয় মেনে নিয়েছে।’
বাংলাদেশ সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাপুসের সদস্য গফুর হোসেন বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্তে আমরা এখনো অনড় আছি। রোজার মাসে বইমেলা হলে আমরা অংশগ্রহণ করব না। ২৫ শতাংশ স্টলভাড়া কমালে আমাদের লাভটা কী? মিস্ত্রি, নির্মাণ শ্রমিক, বিক্রয়কর্মীসহ আনুষঙ্গিক খরচ তো আমাদের কমবে না। বাপুসের সদস্য প্রকাশকদের সঙ্গে কথা হয়েছে।
একদিকে নির্বাচনের উত্তাপ আর অন্যদিকে পবিত্র রমজান—এই দুই চ্যালেঞ্জের মাঝেও বইমেলার ঐতিহ্য বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে বাংলা একাডেমি। এবারের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।