মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে কমলা দেবী হ্যারিসের নাম শোনা যাচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী এই নেতা ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তার মা শ্যামলা গোপালন একজন ক্যানসার গবেষক এবং বাবা ডোনাল্ড জ্যাসপার হ্যারিস একজন জেমাইকান-আমেরিকান অর্থনীতিবিদ।
কমলা হ্যারিস একসঙ্গে দুটি রেকর্ড স্থাপন করেছেন: তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ভাইস প্রেসিডেন্ট। ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের রানিং মেট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এই ইতিহাস সৃষ্টি করেন। যদিও তার পরিবারে অল্প বয়সে বিচ্ছেদ ঘটে, মা শ্যামলা তাকে ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে বড় করেছেন।
অধ্যয়ন ও ক্যারিয়ার জীবন শুরু করার পর কমলা আইনশাস্ত্রে স্নাতক হন। তিনি প্রথমে হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং পরে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়েন। স্নাতক শেষে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার একজন নামকরা আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন এবং ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো সিনেটর নির্বাচিত হন।
৪৮ বছর বয়সে কমলা হ্যারিস ডগ এমহফের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ডগ একজন বিনোদন আইনজীবী এবং তার আগের পক্ষের দুটি সন্তান রয়েছে। পরিবার হিসেবে তারা প্রতি রবিবার একত্রে নৈশভোজ করেন, যেখানে তারা একে অপরের সঙ্গে সময় কাটান।
কমলার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার প্রক্রিয়া নাটকীয়। মার্কিন দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার জন্য কঠোর প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির ২০২০ সালের নির্বাচনে বাইডেনকে সমর্থন দিয়েছিলেন কমলা, তবে পরে বাইডেন প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নিজে প্রার্থী হিসেবে উঠে আসেন।
সফল প্রচারাভিযানের মাধ্যমে কমলা হ্যারিস টেলিভিশন বিতর্কে ট্রাম্পের সঙ্গে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করেছেন। তাকে সমর্থন জানাতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সেলিব্রিটিরাও প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। অধিকাংশ জরিপে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের চেয়ে তিনি সামান্য এগিয়ে আছেন।
কমলার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে শ্রমিক শ্রেণির অধিকার বৃদ্ধি, মাতৃত্ব-পিতৃত্বকালীন ছুটি ও শিশু যত্নের সুবিধা বৃদ্ধি এবং নারীদের প্রজনন স্বাধীনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার রয়েছে। তার এই প্রচেষ্টাগুলি তাকে একটি শক্তিশালী নেতা হিসেবে প্রতিস্থাপন করে।


