রাজশাহী-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুদকের তথ্যমতে, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে শাহরিয়ার আলম ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন এবং তা ভোগদখলে রাখেন। এ ছাড়া, তার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ২৬০ কোটিরও বেশি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং আইনের আওতায় সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত হয়েছে।
এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে রাজশাহী-৬ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শাহরিয়ার আলম। নির্বাচনের হলফনামায় তিনি নিজেকে ভূমিহীন বলে উল্লেখ করেন এবং জানান যে তার কাছে ২ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে, যার বিপরীতে ছিল প্রায় ৭৬ কোটি টাকার ঋণ। এ ধরনের আর্থিক অবস্থার পরও তিনি সংসদ সদস্য ও পরে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান।
সমালোচকরা বলছেন, এমন একটি আর্থিক প্রেক্ষাপট থেকে কয়েক বছরের ব্যবধানে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়া অত্যন্ত অস্বাভাবিক। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা এবং তদন্তের বিষয় ছিল। অবশেষে দুদকের তদন্তে এসব লেনদেনের প্রমাণ উঠে এসেছে।
শাহরিয়ার আলমের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও এখনো তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
দুদক জানিয়েছে, এই মামলাটি দুর্নীতি ও অর্থপাচার বিরোধী প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এবং বিষয়টি নিয়ে আরও গভীর তদন্ত চলবে।


