রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আক্কেলপুর রুটে বিআরটিসি বাস চলাচল এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। এ কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। এই রুটে বাস চলাচল শুরুর দাবিতে রোববার (১২ জানুয়ারি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন বিআরটিসি বাস চালক, হেলপার এবং স্থানীয় জনগণ। মানববন্ধনে বক্তারা জানান, গত ২৬ ডিসেম্বর রাজশাহী-আক্কেলপুর রুটে যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে বিআরটিসি বাস চালু করা হয়। তবে জেলা বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিকরা বিভিন্নভাবে বাধা দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো বাস আটকে দেওয়া হয়। পরে ৯ জানুয়ারি রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া বিআরটিসি বাসটি টার্মিনালের সামনে থামিয়ে চালক আশরাফুল হক ও হেলপার ইব্রাহীম খলিলকে মারধর করা হয় এবং বাসটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কয়েক দফা প্রশাসনকে অবহিত করলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং যাত্রী পরিষেবা বন্ধ থাকায় গোমস্তাপুর ও আক্কেলপুর এলাকার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। বক্তারা বলেন, জেলা বাস মালিক সমিতির প্রভাবশালী কিছু সদস্য নিজেদের স্বার্থে বিআরটিসি বাস চলাচলে বাধা দিচ্ছেন। অথচ এই রুটে বিআরটিসি বাস চালু হওয়ায় স্থানীয় মানুষ স্বস্তি পেয়েছিলেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, বাস চালু রাখতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী প্রশাসনের অনুমতি থাকলেও বাস মালিক সমিতির চাপে তা বন্ধ হয়ে যায়।
এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধনকারীরা বলেন, বিআরটিসি বাসটি পুনরায় চালু না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে এগোবেন। মানববন্ধন শেষে উপজেলা দুটির বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন। এতে দ্রুত বিআরটিসি বাস পরিষেবা চালুর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিসি বাসের চালক আশরাফুল হক, হেলপার ইব্রাহীম খলিল, সুপারভাইজার মুর্শেদ আলী এবং টিকিট মাস্টার আব্দুর রশিদ।
উপস্থিত স্থানীয়রা বলেন, সরকারি বাস চলাচলে বাধা দেওয়া বেআইনি। তাই প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে তারা আশা করছেন।


