খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, দেশে খাদ্য সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই, তবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে কিছু খাদ্যশস্যের চোরাচালান হতে পারে। এর মধ্যে দেশের সীমান্ত এলাকায় বিজিবি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নজরদারি চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে চোরাচালান প্রতিরোধ করা যায়।তিনি বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত ‘খাদ্যশস্য চোরাচালান প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারকরণ’ শীর্ষক সভা শেষে এসব মন্তব্য করেন। সভায় তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে ১৩ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং গম মজুত রয়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার রমজান মাসের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যাতে খাদ্যের দাম সহনশীল থাকে এবং সাধারণ মানুষের উপর চাপ না পড়ে।
রমজান মাসে দেশের ৫০ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকায় ৩০ কেজি চাল দেওয়া হবে, যা সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুরু করা হয়েছে। এ ছাড়াও ঈদুল ফিতরে এক কোটি পরিবারকে এক লাখ মেট্রিক টন চাল উপহার দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সরকার খাদ্য সংকট মোকাবেলা এবং দরিদ্র জনগণের সহায়তার জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এছাড়া, উপদেষ্টা মজুমদার জানিয়েছেন, মিয়ানমারের রাখাইনে খাদ্য সংকটের ফলে বাংলাদেশে কিছু চোরাচালান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকার ইতিমধ্যেই এসব চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য সীমান্তে নজরদারি আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে, পুরানো চোরাচালান প্রবণতা যেমন সার এবং জ্বালানি তেল নিয়ে সীমান্তে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল, সেগুলোকেও মোকাবেলা করতে হবে।
তিনি জানান, সরকারি খাদ্য মজুত এবং আমদানির পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে, এবং সরকারের পদক্ষেপের কারণে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা না থাকলে, চালের সংকট কেটে যাবে এবং দাম সহনশীল থাকবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের ঝুঁকি তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সচেতন মহল মনে করছে।


