বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বাড়তি শুল্ক কমানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পুনরায় বৈঠকের অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং বাংলাদেশ এখন তাদের আমন্ত্রণের অপেক্ষায় আছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। আমাদের রফতানি বাজারের প্রবৃদ্ধি রক্ষায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও জানান, শুক্রবার (২৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দল অনলাইনে একটি মিটিংয়ের সময়সূচি দিয়েছে। তবে, তিনি সতর্ক করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কাঠামো অত্যন্ত জটিল ও আইনি প্রক্রিয়ায় আবদ্ধ। তাই এ ক্ষেত্রে কোনো লবিস্ট বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়। আমাদের রাষ্ট্রীয় কূটনীতিক প্রক্রিয়াই এ সমস্যার সমাধানে মূল ভূমিকা রাখবে।”
এ সময় তিনি সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “বাংলাদেশ সরকার এমন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, যা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। বরং, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
শেখ বশিরউদ্দীনের মতে, ১ আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রত্যাশিত বৈঠক না হলেও ভবিষ্যতে আলোচনার দরজা খোলা থাকবে। তিনি বলেন, “আমরা আলোচনা চালিয়ে যাব। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের অন্যতম প্রধান রফতানি গন্তব্য, তাই এ সম্পর্ককে শক্তিশালী করতেই এই প্রচেষ্টা।”
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধান রফতানি গন্তব্যগুলোর একটি, যেখানে পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। অতিরিক্ত শুল্কের কারণে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।


