জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি ঠেকাতে বিশেষ পরিকল্পনা নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে কেউ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে চাইলে পিতামাতা ছাড়াও পরিবারের অন্য সব সদস্যের এনআইডির তথ্য দিতে হবে। রোহিঙ্গাসহ বিদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে এনআইডি পাওয়ার পথ বন্ধ করতেই এমন পরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে, এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক করার কথাও ভাবছে ইসি। এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে অবশ্যই নবায়ন করতে হতে পারে। আইন ও বিধিমালায় আগে থেকেই নবায়নের বিষয়টি থাকলেও এতদিন সেটি বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে নানা জটিলতায় এখন বাধ্যতামূলক করা করা হচ্ছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত এনআইডি পাওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে হয়। এনআইডি নিবন্ধন ফরমে বর্তমানে কেবল পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পিতা ও মাতার এনআইডির তথ্য দিতে হয়। আগামী দিনে পরিবারের অন্য সদস্য তথা ভাইবোনের তথ্যও দিতে হবে। এর মধ্য দিয়ে একটি ‘ফ্যামিলি ট্রি’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
ইসির এনআইডি নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ঠেকাতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ ফরমের মাধ্যমে ভোটার বা এনআইডি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে রোহিঙ্গাদের এনআইডি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। যার কারণে রোহিঙ্গারা এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে অবৈধভাবে ও দালালদের মাধ্যমে এনআইডি সংগ্রহ করে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়ে যাচ্ছেন।
কর্মকর্তারা আরও জানান, পরিবারের সবার তথ্য একসঙ্গে থাকলে এনআইডি সংশোধনের হার কমে যাবে, সবার তথ্য পাওয়া যাবে মুহূর্তেই। এতে বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠান সহজেই ব্যক্তির পরিচয় আরও সুনির্দিষ্টভাবে যাচাই-বাছাই করতে পারবে।


