দেশজুড়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করতে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিদিনই অসংখ্য অভিযোগের আবেদন পাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২০ হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, যাচাই-বাছাই শেষে লক্ষাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল হতে পারে।
সরকারি সূত্র জানায়, অভিযোগ যাচাই করতে সরেজমিন শুনানির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক শাহিনা খাতুন জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা নেওয়া হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ কমিটি গঠন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে, সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যে ১২ জন অমুক্তিযোদ্ধা তাদের সনদ ফেরত দিতে আবেদন করেছেন। তাদের কেউ কেউ দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, ভুলবশত সনদ গ্রহণ করেছেন। তবে মন্ত্রণালয় এই আবেদনকারীদের পরিচয় প্রকাশ করেনি।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২ লাখ ৮ হাজার। তবে এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্ধান পাওয়া গেছে। অনিয়মের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সনদ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন। সরকার তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভাবছে।
অন্যদিকে, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ ভাতা গ্রহণ করেননি এমন ১,৩৯৯ শহিদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সন্ধানে নেমেছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম জানিয়েছেন, অনেক পরিবার জানেই না যে তারা সরকারের সহায়তা পাওয়ার যোগ্য। তাদের চিহ্নিত করে সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও, কিছু মুক্তিযোদ্ধা আশঙ্কা করছেন যে, যাচাই-বাছাইয়ের নামে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারাও হয়রানির শিকার হতে পারেন। তবে উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম আশ্বস্ত করেছেন, কোনো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সরকার ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক অধ্যাদেশ সংশোধনের কাজ শুরু করেছে। সংশোধন শেষে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করে দ্রুত তালিকা প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।


