সরকারি তিতুমীর কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরসহ সাত দফা দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলেজের মূল ফটকের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে অনশন শুরু করেন তারা। ব্যানারে লেখা ছিল— ‘তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে আমরণ অনশন’।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন করলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে এবার আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন।
অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সাত কলেজের অন্তর্ভুক্ত না রেখে সরকারি তিতুমীর কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি তাদের দীর্ঘদিনের। তাদের মতে, এই কলেজে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা অনেক স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়েও বেশি। তাই এখানে স্বতন্ত্র প্রশাসন গঠন করে একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি।
শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
1. তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ
2. বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পৃথক প্রশাসন গঠন এবং ২০২৪-২৫ সেশনের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা
3. শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করা, অন্যথায় তাদের আবাসিক ব্যয় বহন করা
4. নূন্যতম দুটি আন্তর্জাতিক মানের বিষয় (আইন ও সাংবাদিকতা) সংযোজন
5. একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পিএইচডিধারী শিক্ষক নিয়োগ
6. আসনসংখ্যা সীমিতকরণ ও গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত জমি এবং আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ
7. আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ
বনানী থানার ওসি রাসেল সারোয়ার জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের অনশন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চলছে, এখনো কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন।
শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন কতদূর যাবে, প্রশাসন কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


