বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার সকালে মেহেরপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম শারমিন নাহারের আদালত এই আদেশ দেন। তবে রিমান্ডের সময় তাকে কারাগারের গেটেই জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মেহেরপুর জেলা কারাগার থেকে ফরহাদ হোসেন ও তার ভাই সরফরাজ হোসেন মৃদুলকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু সালেহ মোহাম্মদ নাছিম মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং নির্দেশ দেন, জিজ্ঞাসাবাদ কারাগারের গেটেই সম্পন্ন করতে হবে।
এর আগে, গতকাল বুধবার রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ফরহাদ হোসেনকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। তার আগমনের খবর পেয়ে বহু উৎসুক মানুষ সড়কে ভিড় করেন। জেলা কারাগারের সামনেও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় এবং কারাগারের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। গত ৫ আগস্ট মেহেরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। হামলার ঘটনায় সদর উপজেলার দরবেশপুর গ্রামের রাশেদুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মেহেরপুরে স্থানান্তর করা হয়।
ফরহাদ হোসেনের গ্রেপ্তার ও রিমান্ড নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তার দলীয় সমর্থকরা অভিযোগ করেছেন যে এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। অন্যদিকে, আন্দোলনকারী ছাত্ররা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আইনজীবী ও বিশ্লেষকদের মতে, মামলার তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, এবং রিমান্ডের মাধ্যমে নতুন তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে। তবে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়ায় এই প্রক্রিয়া কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে।


