ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে জমি ও গাড়ির নিবন্ধনে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (বিন) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির মতো পরিষেবা নিতে হলেও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের থাকতে হবে বিন। ভ্যাটের আওতা ও নিবন্ধনের সংখ্যা বৃদ্ধিতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ ধরনের প্রস্তাবনা থাকছে। সেই বিনের ওপর বসছে নির্দিষ্ট ভ্যাট। তবে বিন নেওয়ার ক্ষেত্রে সনদ বা দালিলিক প্রমাণাদির বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে থাকছে শিথিলতা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধির বিষয়টি আগামী বাজেটে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যেসব ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন নেই, সেগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ থাকবে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে যে কোনো পরিষেবা গ্রহণ কিংবা জমি বা গাড়ি কেনার মতো ইস্যুর ক্ষেত্রে বিন থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করছে এনবিআর।
এনবিআর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনে বর্তমানে ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ বেশ কিছু তথ্যের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এসব তথ্যের অপার্যপ্ততা কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণের কারণে ভ্যাট নিবন্ধন করা সম্ভব হয় না। ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ অন্যান্য তথ্যের বাধ্যবাধকতা তুলে ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সিস্টেমে ক্লিক করেই যাতে নিবন্ধন করতে পারে সে-ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে সহজ করে অন্যান্য সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে’ বলেন তিনি।
একটি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে যেসব তথ্যের প্রয়োজন হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের এনআইডি, ই-টিআইএন সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঠিকানার প্রমাণ, ভাড়ার চুক্তিপত্র বা বাড়িভাড়ার রসিদ বা বিদ্যুৎ বিলের কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, কোম্পানির স্মারক সংঘ ও গঠনতন্ত্র, ব্যবসা শুরুর সনদ, আরজেএসকি ডকুমেন্ট, বোর্ড রেজ্যুলেশন, অংশীদার চুক্তি, ব্যাংক হিসাব তথ্য ইত্যাদি। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী এসব দলিলাদির প্রয়োজন হয়। তবে আগামী বাজেটে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিন নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব সনদ বা দালিলিক প্রমাণাদির বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে শিথিলতা আসবে বলে এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বার্ষিক ৩০ লাখ টাকার বেশি টার্ন ওভারের প্রতিষ্ঠানের জন্য ভ্যাট নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এ শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও বহু প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের আওতার বাইরে রয়েছে। আগামী বাজেটে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা থাকবে। তবে ছোট যেসব প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে সেগুলোর জন্য বিশেষ কিছু ছাড় থাকবে। নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হয়। তবে এ ধরনের ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ ধরনের রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ বছর কিংবা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এ ধরনের বাধ্যবাধকতার আওতায় রাখা হবে। তারা বছরে কিংবা ষণ¥াষিক হিসাবে রিটার্ন জমা দিবে।
অন্যদিকে, ভ্যাট পরিশোধের ক্ষেত্রে এলাকা কিংবা মৌজাভেদে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে ভ্যাট পরিশোধ করবে। ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ কিংবা করপ্রদানে ভীতি যাতে তৈরি না হয় সে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তারা।


