দেশের চালের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে নতুন এক পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পাকিস্তানের ট্রেডিং করপোরেশন এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মধ্যে আতপ চাল আমদানির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ট্রেডিং করপোরেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ রাফিও বশির শাহ এবং বাংলাদেশের পক্ষে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল খালেক চুক্তিতে সই করেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জি-টু-জি (সরকার থেকে সরকার) ভিত্তিতে এ চাল আমদানি চুক্তি দেশের বাজারে চালের সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এতে মূল্য স্থিতিশীল থাকবে এবং সাধারণ মানুষও উপকৃত হবে। পাশাপাশি, এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য সচিব মো. মাসুদুল হাসান এবং পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল সেক্রেটারি শাকিল আহমেদ। এছাড়াও পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তান থেকে আতপ চাল বাংলাদেশে আসার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। এই চাল সরবরাহের ফলে দেশের খাদ্য মজুত বৃদ্ধি পাবে এবং সংকটকালীন সময়েও সরবরাহ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে এ চুক্তি শুধু চাল আমদানিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতে উভয় দেশের মধ্যে আরও পণ্য বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে খাদ্য সংকট এড়াতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমদানি চুক্তি করা হচ্ছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে এই সমঝোতা চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আমদানি চুক্তির কারণে স্থানীয় বাজারে চালের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা যাবে। এছাড়া, কৃষিখাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


