বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে চলমান সংকটের কারণে গ্রাহকরা ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিগত সরকারের আমলে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি ঘটেছে, যার ফলে বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ব্যাংক এখন গ্রাহকদের আমানত ফিরিয়ে দিতে পারছে না, আর এর ফলে পুরো খাতটি অস্থির হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব সংকট সমাধানে তারল্য সহায়তা প্রদান করলেও, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
বর্তমানে ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বাংলাদেশ ব্যাংক) ঋণদানে সহজলভ্যতা বৃদ্ধি করতে ১০টি ব্যাংককে ৬ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা সহায়তা প্রদান করেছে। তবে, এই সহায়তাতেও ব্যাংকগুলোতে অর্থের সংকট কাটছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক খাতের এই আস্থাহীনতা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে আগের সরকারের আমলে পরিচালিত বিশাল অনিয়ম ও দুর্নীতি, যার ফলস্বরূপ ব্যাপক পরিমাণে টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অনিয়মের ফলে ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি বিশাল আস্থা সংকট তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা জানান, সরকার গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য সহায়তা প্রদান করছে, তবে ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে আরও সময় লাগবে। তিনি বলেন, “গ্রাহকরা আশা করছেন যে, ব্যাংক খাতের এই সংকট একসময় কাটিয়ে উঠবে।” তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
এদিকে, চলতি বছর সেপ্টেম্বরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ পৌঁছেছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকায়, যা ঋণের মোট পরিমাণের প্রায় ১৭ শতাংশ। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো এই খেলাপি ঋণের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪০ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে এটি ১১.৮৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, তারা সংকট মোকাবিলায় তারল্য সহায়তা অব্যাহত রাখবে। তবে ব্যাংকগুলোকে তাদের নিজস্ব রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে তারা নিজেদের সম্পদের জোগান দিতে সক্ষম হয়। গ্রাহকদের চাপ কমলে, ব্যাংকগুলোর জন্য পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় হবে। তবে, এ সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে সমাধান না হলে ব্যাংক খাতের অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১১টি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করেছে। এসব ব্যাংকগুলোর বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে এবং যেসব ব্যাংকে অনিয়ম বা দুর্নীতি পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


