বর্তমান সরকারের লক্ষ্য নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং মূল্যস্ফীতির বিরূপ প্রভাব কমানোর জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১৭ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক জাতির উদ্দেশে ভাষণে এসব বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকার দ্রব্যমূল্যের বিষয়ে কোনো ধরনের গোপনীয়তা বা লুকোছাপা রাখছে না এবং মূল্যস্ফীতির পূর্ণ তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরছে।
এসময়, তিনি মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। যেমন, উচ্চ সুদের হার নির্ধারণ এবং শস্য আমদানির জন্য এলসি সীমা অপসারণ। এর পাশাপাশি সরবরাহ চেইন সংক্ষিপ্ত করার জন্যও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশেষভাবে খাদ্য সংকট নিরসনে সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডিমের সরবরাহ বাড়াতে সাড়ে নয় কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি উৎপাদকদের বাজারে নিয়ে আসার উদ্যোগ।
নিত্যপণ্যের দাম কমাতে, সরকার বাজারে আরও কিছু কৃষি পণ্য সরবরাহ করছে। টিসিবি (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) মাধ্যমে এক কোটি নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য স্মার্ট কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে ৫৭ লাখ পরিবারকে কম মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া, বন্যার ফলে চালের উৎপাদন কম হওয়ায় চাল আমদানির উপর শুল্ক ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, আগামী রমজান মাসের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ এবং দাম স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এসময়, সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে না বলেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে সাধারণ জনগণ সুবিধা পেতে পারে।
সরকারের এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে, দেশের বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে চেষ্টা করা হচ্ছে।


