ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় লাগাতার আন্দোলন, সড়ক ও রেলপথ অবরোধ এবং সহিংসতার ঘটনা যেন এখন নিয়মিত চিত্র। সাম্প্রতিক সময়ে এসব আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এগুলো কেবল দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে নয়, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটার উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার চার মাস পেরিয়ে গেলেও আন্দোলনের মাত্রা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে আনসার সদস্যদের বিদ্রোহ, পোশাক শ্রমিকদের বেতন ভাতার দাবিতে আন্দোলন এবং পরীক্ষার বদলে অটোপাশের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ উল্লেখযোগ্য। তবে এগুলোর পেছনে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, সাবেক আওয়ামী সরকারের নেতাকর্মীরা এসব আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে। আইনজীবী তাসমীর উদয় মনে করেন, দাবি আদায়ের নামে এই সহিংসতা মূলত একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত, যা সরকারের কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। তার মতে, আন্দোলনকারীদের মধ্যে দলীয় পরিচয় গোপন করে অনেকেই বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে।
সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের দাবিতে শাহবাগ থেকে শুরু করে মহাখালী পর্যন্ত আন্দোলন হয়। কিন্তু একাধিক ভিডিও এবং তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব আন্দোলনে সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতারা নেতৃত্ব দিচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, আন্দোলনের পেছনে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ভূমিকা আছে কিনা, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
গত আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকায় প্রায় ৩০০ ছোট-বড় আন্দোলন হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাবিগুলোর মধ্যে কিছু যৌক্তিক হলেও অনেক ক্ষেত্রেই এসব আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আনসার সদস্যদের আন্দোলনের ক্ষেত্রে যেমন সরাসরি জাতীয়করণের দাবি জানানো হয়েছিল, তেমনি শিক্ষার্থীদের দাবি থেকেও লক্ষ্য করা গেছে নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন বারবার সড়ক ও রেলপথে স্থবিরতা আনছে। এর পেছনে পুরনো সরকারের সুবিধাভোগী নেতাদের অর্থায়নের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সদস্যসচিব মোহাম্মদ হানিফ খোকন বলেছেন, আন্দোলনের আড়ালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনভোগান্তি সৃষ্টিকারী এসব কর্মকাণ্ডে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারকে আন্দোলনের প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনের চক্র সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা নিয়ন্ত্রণে জনগণ, সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


