বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে দুর্বল ব্যাংকগুলোর সংকট সমাধানে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছাপানো টাকায় সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিলেও ৬টি দুর্বল ব্যাংকের তারল্য সংকট কাটেনি। এখন ব্যাংকগুলো আরও সহায়তা দাবি করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব দুর্বল ব্যাংকের প্রায় সব সূচকে অবনতি হয়েছে। আমানত সংগ্রহ কমেছে, তারল্য সংকট বেড়েছে। গত তিন মাসে অতিরিক্ত তারল্য সাড়ে ৯৮ শতাংশ কমে ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা থেকে মাত্র ১৬১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। আমানতও ২ শতাংশ কমে সেপ্টেম্বরে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। সংকটের প্রধান কারণ সুশাসনের অভাব ও ব্যাংক ব্যবস্থায় অনিয়ম। বিশেষ করে, লুটপাট হওয়া টাকার বেশিরভাগ বিদেশে পাচার হয়েছে। এসব ঋণ এখন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। প্রচলিত সংজ্ঞায় খেলাপি ঋণ ২ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক মানের সংজ্ঞা কার্যকর হলে খেলাপি ঋণ আরও বাড়বে।
এদিকে, আইএমএফ খেলাপি ঋণ কমানোর চাপ দিচ্ছে। তারা ঋণ আদায় ব্যবস্থা উন্নত করা এবং কঠোর আইন বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলো ঋণ আদায়ে জোর দিচ্ছে। তবে পাচার হওয়া অর্থ এবং বিদেশে থাকা উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় কঠিন ও সময়সাপেক্ষ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে সুশাসন নিশ্চিত করতে বলেছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে গ্রাহকদের আস্থা বাড়বে এবং সংকট মোকাবিলা সহজ হবে। তবে সংকট সমাধানে ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ নিলেও পূর্বের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। একীভূতকরণের ঘোষণায় আমানত তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়ে ক্ষতি আরও বাড়ে।
২০২৪ সালের শুরু থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুর্বল ব্যাংকের জন্য ‘প্রমোট কারেক্টিভ অ্যাকশন প্ল্যান’ চালু করবে। এর আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে ঋণ বিতরণ বন্ধ এবং আমানত সংগ্রহ সীমিত করার মতো কঠোর পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
দুর্বল ব্যাংকগুলোর এই সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর নজরদারি ও নীতি বাস্তবায়ন করছে। তবে সুশাসন নিশ্চিত না হলে এই চ্যালেঞ্জ দীর্ঘায়িত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


