জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রবিবার (১২ জুলাই) ভোর সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের এক শোকবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি জোবায়ের রহমান চৌধুরীও।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শোক
জমির উদ্দিন সরকার এর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রবিবার (১২ জুলাই) আলাদা শোক বার্তায় সাবেক এই স্পিকারের প্রতি বর্তমান স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার শোক এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।
পৃথক শোক বার্তায় জানানো হয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ ও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
জমির উদ্দিন সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন: নাহিদ ইসলাম
জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ছাত্রজীবন থেকেই ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা গুটিকয়েক আইনজীবীর অন্যতম ছিলেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, আইন অঙ্গন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনায় তার অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও নিরপেক্ষতা সর্বমহলে প্রশংসিত ছিল বলেও উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ২০০২ সালে তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন। একজন খ্যাতিমান আইনজীবী হিসেবে সংবিধান ও বিচারব্যবস্থার বিকাশে তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। দেশের রাজনীতি, সংসদীয় চর্চা এবং আইন অঙ্গনে তার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। জমিরউদ্দিন সরকারের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান নাহিদ ইসলাম।


