কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণে অবৈধ স্টেরয়েড, হরমোন ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কর্নেল (অব.) ডা. নাজমুল হুদা খান। তিনি বলেন, অস্বাস্থ্যকর উপায়ে মোটাতাজা করা পশুর মাংস মানুষের কিডনি, লিভার, ফুসফুসসহ বিভিন্ন অঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি জানান, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে দ্রুত লাভের আশায় কিছু অসাধু খামারি পশুর ওজন বাড়াতে ডেক্সামেথাসন, প্রেডনিসোলনসহ বিভিন্ন স্টেরয়েড ও হরমোন ব্যবহার করে থাকে। এসব উপাদান পশুর শরীরে কৃত্রিমভাবে পানি জমিয়ে সাময়িকভাবে ওজন বাড়ালেও তা পশুর স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ডা. নাজমুল হুদা খানের মতে, রান্নার পরও এসব স্টেরয়েডের প্রভাব পুরোপুরি নষ্ট হয় না। ফলে এসব মাংস খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরে কিডনি ও লিভারের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। শিশু ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গবাদিপশুতে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সাধারণ সংক্রমণের চিকিৎসাকেও কঠিন করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, অস্বাভাবিকভাবে মোটাতাজা পশুর কিছু লক্ষণ রয়েছে। যেমন— পশুর চলাফেরায় অনীহা, অতিরিক্ত ভারী দেখানো, ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া, নাক শুষ্ক থাকা এবং চামড়া অস্বাভাবিকভাবে চকচকে হওয়া। তবে শুধু বাহ্যিক লক্ষণের ওপর নির্ভর না করে সচেতনভাবে পশু কেনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পশু খাদ্য আইন-২০১০ অনুযায়ী গবাদিপশু মোটাতাজাকরণে অবৈধ স্টেরয়েড, হরমোন ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করলে জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
নিরাপদ কোরবানি নিশ্চিত করতে খামারিদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশু পালনে উৎসাহিত করা, অবৈধ ওষুধের বিক্রি নিয়ন্ত্রণ, পশুর হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং গণসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন কর্নেল (অব.) ডা. নাজমুল হুদা খান।


