২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে ফের বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন দামের ফলে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ১৭৫ টাকায়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। ফলে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ক্ষেত্রে দাম ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ২২৩ টাকা
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, স্বর্ণের মূল্যের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি বাধ্যতামূলকভাবে যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদ অনুযায়ী এই মজুরি কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
এর আগে, গত ২২ জুলাইও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাম দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ৭১ হাজার ৬০১ টাকা। তার পরদিনই আবার দাম বাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিল বাজুস।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৪৪ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, আর কমানো হয়েছে মাত্র ১৫ বার। আগের বছর ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার দাম সমন্বয় হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৫ বার দাম বেড়েছিল।
স্বর্ণের দামে টানা এই ঊর্ধ্বগতির বিপরীতে রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। দেশের বাজারে এখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮১১ টাকায়। ২১ ক্যারেটের দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১ হাজার ৭২৬ টাকা রয়েছে অপরিবর্তিত।
স্বর্ণের দাম বাড়তে থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ ও হতাশা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নববিবাহিতদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।


