বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ইউরোপে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক হিসেবে অবস্থান করছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ ইউরোপে মোট ১ হাজার ৬৫২ কোটি ২৬ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১.৪৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, শুল্কবিহীন সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এ প্রবৃদ্ধি বেশ সীমিত, যা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিগত বছরগুলিতে ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি প্রায় ১০-১২% ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বেশ চ্যালেঞ্জিং। করোনাভাইরাস পরবর্তী সময়ে ইউরোপে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা ইউরোপীয় বাজারে পোশাকের চাহিদা হ্রাসের কারণ হয়েছে। অধিকাংশ মানুষের জীবনের খরচ বাড়ার কারণে পোশাক কেনার প্রবণতা কমে গেছে। তবে, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি কিছুটা স্থিতিশীল হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে।
এদিকে, বাংলাদেশে উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চলমান থাকলেও, ইউরোপের বাজারে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। যদিও ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল। তিনি জানান, কম দামে কার্যাদেশ নেওয়ার ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি হয়েছে, তবে এর সঙ্গে আরও বেশি সতর্কতা ও দক্ষতা প্রয়োজন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার জন্য।
এছাড়া, বাংলাদেশকে গায়ে চেপে থাকা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম। ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনাম গত ১০ মাসে ৩.৩১% প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা বাংলাদেশের দ্বিগুণ। যদিও বাংলাদেশের মোট রপ্তানি পরিমাণ সাড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার, ভিয়েতনামের রপ্তানি প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন আরো বেশি কর্মক্ষমতা এবং দক্ষতার সঙ্গে বাজারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করা।
এই চ্যালেঞ্জের মধ্যে বাংলাদেশ যদি সক্ষম হয়, তবে ইউরোপে তার তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়াতে সক্ষম হবে।


