দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে যখন চরম সংকট, তখন অন্তর্বর্তী সরকার ৬৫টি পণ্য ও সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বৃদ্ধি করেছে। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সর্বত্র সমালোচনা হলেও অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, কেন ভ্যাট বাড়ানো হয়েছিল তা কয়েক দিনের মধ্যে পরিষ্কার হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “বর্তমান ভ্যাট নীতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, তবে আগামী বাজেটে ভ্যাট ও করের ক্ষেত্রে সুষম নীতি প্রণয়ন করা হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাট কমানো হলেও দুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।
অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক ও ক্রয় সংক্রান্ত বৈঠকে সরকারি কার্যক্রমে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘বিশেষ ওএমএস’ কর্মসূচির আওতায় কৃষিপণ্য সরবরাহে নতুন উদ্যোগ অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বাফার মজুদ বাড়াতে ৭৫৬ কোটি টাকার সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। সার আমদানির জন্য চারটি দেশ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং ৩০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক অ্যাসিড। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিষ্ঠান থেকে এই সার আমদানি করা হবে।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের টিএসপিসিএল প্ল্যান্টের জন্য ২০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক অ্যাসিড চীন থেকে এবং ১০ হাজার মেট্রিক টন সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যেখানে পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের জন্য ৭০ কোটি টাকার স্টিল ক্রস আর্ম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করতে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৭১২টি ক্রস আর্ম ব্যবহার করা হবে।
অর্থ উপদেষ্টা এসব পদক্ষেপকে দেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি বলে উল্লেখ করেন। তবে জনগণের দৃষ্টিতে ভ্যাট বৃদ্ধি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এখনও উদ্বেগের কারণ।


