রমজানের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার আগেই ফলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। বিশেষত ডলার সংকট, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং শুল্ক বৃদ্ধির কারণে খুচরা বাজারে ১১-১৭ জানুয়ারির মধ্যে ফলের দাম কেজিপ্রতি ৩০-১০০ টাকা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাজারে যারা নিয়মিত ফল কিনতেন, তারা এখন সীমিত পরিমাণে, প্রয়োজনীয় ফল কিনছেন, আর যারা সাধ্যের বাইরে চলে গেছে, তারা ফল কেনা বাদ দিচ্ছেন।
মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তাজা এবং শুকনা ফলের উপর শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে আপেল, আঙুর, তরমুজসহ কিছু বিদেশি ফলের দাম আরও বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, বিদেশি ফলের উপর শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়। ফলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে, রোজাদারের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষত রমজান মাসে যখন ফলের প্রতি চাহিদা অনেক বেড়ে যায়।
রাজধানীর বাদামতলী, মালিবাগ, কাওরান বাজারে খুচরা বাজারের ফলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সপ্তাহ আগে ২৭০-২৮০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হওয়া আপেল এখন ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, কমলার দামও বেড়ে ২৮০-৩০০ টাকা কেজি হয়ে গেছে, যা আগে ছিল ২৫০-২৭০ টাকা। বর্তমানে বিদেশি ফলের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করার ফলে, রমজান মাসে ফলের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে। ইতিমধ্যে, অনেক ক্রেতা উচ্চমূল্যের কারণে ফল কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা এনবিআর-এর কাছে শুল্ক কমানোর জন্য চিঠি দিয়েছিলেন, কিন্তু সরকারের নতুন শুল্ক বৃদ্ধি তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এদিকে, এনবিআরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইএমএফের শর্ত মেনে, অনেক পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার মধ্যে ফলও অন্তর্ভুক্ত। তারা বলেন, ফল ভোগ্যপণ্য না হওয়ায় শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে, কিন্তু এর ফলে ক্রেতাদের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে। রমজান মাসে দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


